পারফিউমেন্স সাইটে কিছুক্ষণ ঘুরেফিরে নাঈম খানিকটা কনফ্যুজ হয়ে গেলো ! আরেহ আরেহ , কোন দিকে যাই ? প্রায়  ৯০ খানা এলকোহলমুক্ত সুগন্ধি চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে , কিন্তু কিভাবে বুঝব কোনটার ঘ্রাণ কেমন ? আর আমার জন্যে একদম পারফেক্ট হবে ?
.
স্ক্রল করতে করতে চোখে পরলো, সাইটের ডান দিকের কোণায় নীলচে বক্সে লেখা ” কোনো জিজ্ঞাসা ? বলে ফেলুন, আমরা অনলাইনেই আছি ” ! খুব বেশি একটা কিছু আশা না করে নাঈম ভায়া সেথায় নক করে অন্য ট্যাবে ফেইসবুকের নিউজফিড দেখা শুরু করল , সুঘ্রাণ কেনার ইচ্ছা তার উবে গেছে … ও মা, মিনিট তিনেক বাদেই টুক করে উঠলো ব্রাউজার, আগের ট্যাবের সেই চ্যাটবক্সে নিউ ম্যাসেজ দেখাচ্ছে ! শুরু হলো কথা বলা, ক্রেতাভাই বনাম বিক্রেতাচি’র । শুরুতেই নাঈমের বয়স আর কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে খানিকটা ধারণা নিয়ে , তাকে পরামর্শ দেওয়া হলো কয়েকটা জনপ্রিয় এলকোহলমুক্ত সুঘ্রাণের নাম , যেগুল তার ব্যক্তিত্বের সাথে খাপ খেয়ে যাবে এমনভাবে ; যেভাবে চিতই পিঠার খোল থেকে সদ্য নামানো ধোঁয়া উঠা পিঠাগুলো আবার সেখানে রেখে দিলে খোলে বসে থাকবে নিখুঁত ভাবে !
.
অবাক হবার পালা তখন মাত্র শুরু । ভারসাচে নাম-টায় ক্লিক করার পরে যখন নতুন পাতা চোখের সামনে ভেসে এলো, তখন মানুষটা আবিষ্কার করলো, হায় হায় , বোতলজাত সুবাসের পাশেই দেখি সেটা নিয়ে বিশাআআআল বিবরণী ! এভাবে সে পড়ে ফেললো অনেকগুলা বর্ণনা , “কেনাকাটার ব্যাগে” জায়গা করে নিলো কয়েকটা সুঘ্রানের ৮মিলি ডিব্বা । ভাবলো এবার , যথেষ্ট হলো, এবার স্ক্রিনের ডানদিকের ওইযে উপরের কোণে টাকার পরিমাণ ঝুলে আছে, সেথায় ক্লিক করে দেখে ফেলি কেনাকাটার ব্যাগে কি কি নিয়েছি  … আচ্ছা, ডেলিভারি চার্জ কতো আসতে পারে — যেই না চিন্তাটা উঁকি দিবে মাথার ভেতরে, ওমনি দেখে নতুন লোড হওয়া পেইজের নিচে ‘পরিবহন খরচা’ বাছাই করার সুবিধা ! চাইলে নিজে এসেও খিলগাঁও শোরুম থেকে পিক আপ করা যায় , এছাড়া
ঢাকার মধ্যে ডোরস্টেপ ক্যাশ অন ডেলিভারি, ডেলিভারি চার্জ ৬০ টাকা।
ঢাকার বাইরে সুন্দরবন কুরিয়ারের মাধ্যমে। কুরিয়ার চার্জ ৯০ টাকা।

খুশিমনে এবার ” কিনেই ফেলি” তে ক্লিকায়ে ফেললো সে, ঠিকানা-নাম্বার-মেইল এড্রেস দিয়ে নিচে নামতে থাকলো পেইমেন্ট অপশন দেখার জন্যে । আনন্দের ষোলকলা পুরণ করতেই হয়তো ঢাকাবাসী ভাইটার নজরে পড়লো বড়বড় করে লেখা ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ লেখাটা [ ঢাকার বাইরের জন্য অগ্রিম বিকাশের ব্যাপারটাও তার চোখে পড়েছিলো বৈ কি ]
.
ঘড়ির কাঁটা তখন পাঁচ আর ছয়ের মাঝামাঝি , জানলা দিয়ে ঠিকরে আসা ডুবন্ত অগ্নিগোলকের আবছায়া আলো ঠিক প্রতিফলিত হচ্ছে কম্পিউটার স্ক্রিনে । সাধারণত ইকমার্স সাইটগুলা ডেলিভারির জন্য দুই দিন সময় নেয় , পারফিউমেন্স-ও সেরকম কিছুই করবে ভেবে, ” যেকোনদিন দুপুরের দিকে ডেলিভারি করবেন প্লিজ ” চিরকুট-টা সাবমিট করে, অর্ডার-টা প্লেস করেই দিলো … ঘন্টা বিশেক পরে মোবাইলে আননউন একখানা নাম্বার থেকে ফোন এলো, কল ধরতেই ” স্যার , পারফিউমেন্স ডেলিভারি চেইন থেকে বলছিলাম, আপনার পণ্য নিয়ে একদম কাছাকাছি আছি ” !!
.
আলহামদুলিল্লাহ, এভাবেই গত বেশ কয়েকদিন ধরে ইনবক্সের পাশাপাশি, অনেক অনেক নাইম ভাইয়া- নাঈমা আপা’রা অর্ডার করে চলেছেন সাইটে 🙂  অর্ডার দেওয়ার সাথে সাথে এডমিট [পড়ুন এডমিন ] সাহেবের মেইলে যখন টুপ্প করে চলে আসে “নিউ অর্ডার ” এর মেইলখানি , সেটাকে প্যাকম্যান-শপম্যান ভাইদের হাতে ন্যস্ত করতে করতে ঠোঁটের কোণে ভেসে উঠা মুচকি হাসিটা দূর করা যায়না কিছুতেই -_-